Tuesday, July 1, 2014

এ সম্পর্ক আর নয় ............ :(

আমাদের জীবনের প্রতিটি সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত সুন্দর ভাবে টিকে নাও থাকতে পারে। কোনো কোনো সম্পর্ক অনেক কারণে বা অকারণেও ভেঙে যেতে পারে। প্রিয়জনের সঙ্গে যদি কখনো এমন সিদ্ধান্তে আসতে হয় যে সম্পর্কটা আর চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, তবে সবচেয়ে ভালো হয় সম্পর্ক খুব জঘন্য অবস্থানে যাওয়ার আগেই তার সুরাহা করা।

ধরুন আপনি আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে সম্পর্ক ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ভাববেন না কাজটা খুব সহজ। সম্পর্ক শেষ হলেও প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা আগের মতোই থাকতে পারে। তাই চেষ্টা করতে হবে এবং নিশ্চিত হতে হবে যেন আপনাদের সুন্দর সম্পর্কটি একটি বিশ্রী সংঘাতের মধ্য দিয়ে শেষ না হয়। আমরা এখানে বলব কীভাবে আপনি বিচ্ছেদের সময় খারাপ দৃশ্য তৈরি হওয়া এড়িয়ে চলতে পারেন।
ভাঙনটি হতে পারে চিঠি, এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে

এটি কারও জন্য ভালো কাজ হতে পারে, আবার কারও জন্য কালবৈশাখি ঝড়ের মতো হতে পারে। তবে সম্পর্ক ভাঙার অবস্থায় যিনি নিজের মনের কথা বলতে পারেন না বা ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারেন না তার জন্য চিঠি লেখা, এসএমএস বা ই-মেইল করার চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। কারণ এর মাধ্যমে তিনি তার অনুভূতির বিশদ বর্ণনা দিতে পারবেন। আবার যিনি বাগ-বিতণ্ডা বা সংঘাত এড়িয়ে চলতে চান, তার জন্যও এটি সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। কিছু লিখিত শব্দ যদিও সম্পর্ক ভেঙে ফেলার জন্য যথেষ্ঠ নয়, তবু অনেকের জন্য এটি খুব ভালো কাজ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগের সাইটে সম্পর্কচ্ছেদ এড়িয়ে চলতে হবে

ফেইসবুক, টুইটার বা এমন সামাজিক যোগাযোগর বিভিন্ন সাইটে আপনি যখন আপনার স্টেটাস, ছবি বা কোনো ধরনের কমেন্ট পোস্ট করেন; তখন ভাববেন না এসব শুধু আপনারা দুজনে দেখছেন। আগে যেমন সবাই দেখত, এখনো সবাই দেখছে। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না আপনাদের সম্পর্কচ্ছেদ নিয়ে পরিচিত, কম-পরিচিত, ছোট-বড় সবাই হাসাহাসি করুক। সেজন্য এসব বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে এসব সাইট এড়িয়ে চলুন।

ধীরে কিন্তু দৃঢ়ভাবে এগোতে হবে

সম্পর্ক ভাঙার সবচেয়ে ভালো পথ হলো ধীরে এবং দৃঢ়ভাবে এগোনো। এর অর্থ হলো সঙ্গীকে বোঝানো যে, আমাদের সম্পর্কটি আর আগের মতো কাজ করছে না। তবে এ ধারণার প্রতি অভ্যস্ত হওয়ার জন্য আপনার সঙ্গীকেও কিছু সময় দিতে হবে। তাহলে সম্পর্কচ্ছেদটি কারও জন্যই বড় ধরনের বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না।

সব অপরাধের দায় সঙ্গীর কাঁধে চাপাবেন না

যখন আপনি পুরোপুরিভাবে সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন একতরফাভাবে সঙ্গীর ওপর দোষ চাপাবেন না। কথা বলা এবং চিন্তায় বাস্তববাদী হোন। তাকে বলুন এ সম্পর্কচ্ছেদটি আমাদের দুজনের জন্যই ভালো হবে। এর জন্য আপনারা দুজনই কমবেশি দায়ী।

বিচ্ছেদের কাজটি জনসম্মুখে করবেন না

আপনি যখন ধারণা করেছেন সম্পর্ক ভাঙবেন, তাহলে এ চিন্তাও করেছেন কীভাবে তা করবেন! তবে যাই ভাবুন না কেনো এটা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে, কাজটি যেন আপনাদের ব্যাক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট না করে বা তা যেন জনসম্মুখে না হয়। কারণ আপনি নিশ্চই চাইবেন না আপনাদের বাগ-বিতণ্ডা, বিশ্রী ঝগড়া অন্যরা উপভোগ করুক বা তারা এতে যুক্ত হোক। যে জায়গাটিতে আপনি নিয়মিত যাতায়াত করেন সেরকম জায়গায় এ কাজটি করা যাবে না। কারণ এ ঘটনাটি পড়ে আপনার জন্য লজ্জার কারণ হবে।

আকস্মিক বা খামখেয়ালিভাবে কাজটি করবেন না

সম্পর্ক ভাঙ্গার কাজটি অফিসে যাওয়া বা বাজার করার মতো গতানুগতিক কাজের মতো করবেন না। আপনার সঙ্গী এবং আপনাদের সম্পর্ককে সম্মান করুন। পরিকল্পনা করুন কীভাবে আরো সামনে আগানো যায়।

মিথ্যা প্রতিজ্ঞা করবেন না

যদি আপনার সঙ্গী খুব আবেগপ্রবণও হয়ে থাকেন, তবু আপনি তার সঙ্গে কোনো মিথ্যা প্রতিজ্ঞা করবেন না। ‘আমি এ বিষয়ে আবার চিন্তা করব’; ‘আমরা হয়তো আবার কোনো একদিন আগের সম্পর্কে ফিরে যাব’- এ ধরনের কথা আপনি নিজে বিশ্বাস না করলে তাকে বলবেন না। বুঝতে চেষ্টা করুন বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য কী।

অধিকাংশ সম্পর্কই মানুষ কিছু গড়ার জন্য করেন, ভাঙার জন্য নয়। তারপরও কখনো কখনো আমাদের জীবনে ভাঙন আসে। এটি অনেক সময়ই অনাকাঙ্ক্ষিত। কিন্তু অনেক সময়ই বিচ্ছেদ মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তাই এটি যত ভালোভাবে করা যায়, ততই কল্যাণকর।

শিশুদের জন্য ‘কিডস ট্যাবলেট’

মনকাড়া রঙ আর আকর্ষনীয় ডিজাইনে তৈরি হ্যাভিট ব্র্যান্ডের এইচভি টি-৭১০ মডেলের কিডস ট্যাবলেট এখন দেশের বাজারে। বাচ্চাদের ব্যবহার উপযোগী এ ট্যাবটি এনেছে কম্পিউটার সিটি টেকনোলজিস।

ডুয়াল কোর প্রসেসর, ৫১২ এমবি ৠাম যুক্ত ট্যাবটির বিশেষ সুবিধায় রয়েছে অ্যাপ্লিকেশন ম্যানেজমেন্ট, পেরেন্টাল কন্ট্রোল, বুক রিডার, পেইন্টিং, গেমিং সহ নানা সুবিধা। পণ্যটিতে ৮ জিবি ষ্টোরেজ মেমোরি সহ বাড়তি মেমোররি জন্য পাওয়া যাবে মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট। এছাড়া ফটোগ্রাফির জন্য  ফ্রন্ট ও রেয়ার ক্যামেরা এবং ইন্টারনেট সংযোগে আছে ওয়াইফাই।

এক বছরের  বিক্রয়োত্তর সেবাসহ কিডস ট্যাবলেটটির দাম পড়বে ছয় হাজার ৮‘শ টাকা। কম্পিউটার সিটির সকল শোরুমে পণ্যটি পাওয়া যাচ্ছে। 

মেসি'র গোল... আর্জেন্টিনার জয়?

আবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চান? প্রথম রাউন্ডের মতো জ্বলে ওঠা লিওনেল মেসি, তারপর আর্জেন্টিনার জয়। সুইজারল্যান্ডকে পিছনে ফেলে কোয়ার্টার ফাইনালে মেসির দল?

সব প্রশ্নের উত্তর জানি একটাই ‘আবার জিগায়...!’ আর আপনি যদি আর্জেন্টিনার বিপক্ষের কেউ হন তাহলে নিশ্চই অন্যকিছু চাইবেন। আর্জেন্টিনার সমর্থক না হয়েও কেউ যদি উদারপন্থী হন তবে চাইতেই পারেন- আর্জেন্টিনাই টিকে থাক, শত হলেও তো বড় দল। মেসির খেলাতো দেখতে পারবো।
        
সুইজারল্যান্ডকে খাটো করে দেখার কোনো উপায় নেই জেনেও যে দিক থেকে হিসাব করবেন, দেখবেন আর্জেন্টিনা অনেক এগিয়ে। আজ পর্যন্ত যতবার মুখোমুখি হয়েছে এই দু'দল- আর্জেন্টিনা হারেনি একবারও। বিশ্বকাপে তাদের দেখা হয়েছিলো একবারই, ৪৮ বছর আগে। ২-০ গোলে জিতেছিলো আর্জেন্টিনা। তারপর গত ১৪ বছরে মাত্র ৩ বার মুখোমুখি হয়েছে ওরা। তিনটাই ছিলো প্রীতি বা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ। যার প্রথম দুটিই অমিমাংসীত ছিলো ১-১ এ। সবশেষ ২০১২ সালে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয় ৩-১ গোলে। আর ঐ তিন গোলের সবক'টিই করেছিলেন মেসি। যা ছিলো জাতীয় দলের হয়ে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক,
মেসি কিন্তু আজও খেলতে নামছেন প্রায় সেদিনের দল নিয়েই, মোটামুটি একই মানের সুইস দলের বিরদ্ধে। স‍ুতরাং আর্জেন্টিনারইতো জেতার কথা এই ম্যাচ। 
       
তবে যতটা সহজ মনে হয় ইতিহাস আর পরিসংখ্যান বিচারে ততটা সহজ হবে না আর্জেন্টিনার জয়- এমন বলা যায় কয়েকটা বিষয় লক্ষ্য করলে। এক. খেলাটা বিশ্বকাপের। এখানে মনস্তাত্ত্বিক চাপ অনেক বেশি। তার উপরে এটি নক আউট ম্যাচ। টেনশনটা সে কারণে আরেকটু বেশি। দুই. গত তিন খেলাতেই গোল করেছেন মেসি। ল'অফ অ্যাভারেজ যদি মানেন তাহলে একদিনতো আসবেই যেদিন খুব ভালো খেলতে পারবেন না মেসি, গোলও করতে পারবেন না... সে দিন যদি আজ হয়ে যায়? ব্রাজিলের নেইমারের বেলায় কি দেখলাম! তিন. যেহেতু ডিফেন্স নিয়ে বদনাম আছে আর্জেন্টিনার তা যদি অটুট থাকে তাহলে বারোটা বাজিয়ে দিতে পারেন জেরদান শেরিকি, সুইজারল্যান্ডের দুর্ধর্ষ স্ট্রাইকার। কয়েকদিন মাত্র আগে হ্যাটট্রিক করেছেন যিনি হন্ডুরাসের বিপক্ষে। চার. আজ সাও পাওলোর কোরিন্থিয়ান এরিনায় সুইজারল্যান্ড থাকছে আর্জেন্টিনার চেয়ে জনপ্রিয় দল। গ্যালারির দর্শকদের বেশিরভাগই যেহেতু ব্রাজিলিয়ান ,সাপোর্ট তারা সুইজারল্যান্ডকেই করবেন, 'চিরশত্রু' আর্জেন্টিনাকে না।
        
সুইজারল্যান্ডের জার্মান কোচ ওতমার হিটজফেল্ড বলছেন, ‘আমরা জানি আমরা আর্জেন্টিনার মতো বড় দল না, তাই  হারাবার কিছু নেই আমাদের, আছে অনেক কিছু পাবার... খেলাতো একটাই, যা কিছুই হতে পারে ফলাফল’।
        
আর্জেন্টিনার থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক বা কৌশল নির্ধারকরাও বেশ সাবধানী আজ। তারাও জানেন অতিমাত্রায় মেসি-নির্ভরতা ঠিক না। মেসি খারাপ করলে দল ডুববে। তাই নতুনভাবে আক্রমনের ছক সাজাতে চাইছেন তারা। 
        
আর্জেন্টিনা সমর্থকরা বোধ হয় আরেকটা হিসাব ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন, তা হলো- প্রথম রাউন্ড থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসা সব দলই দ্বিতীয় রাউন্ডে জয় পেয়েছে। ব্রাজিল, কলম্বিয়া, হল্যান্ড, কোস্টারিকা, ফ্রান্স, জার্মানি- এদের সবাই এখন কোয়ার্টার ফাইনালে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে কেন?
        
তা যদি না হয়, 'সুইস ব্যাংকে'তো গোল জমা হওয়ারই কথা আজ!